৮৯। সূরা আল ফাযর

 ১৭ নং আয়াতে বলা হয়নি যে, তোমরা এতিমদের আশ্রয়, খাবার দাও না বা অন্য কিছু। আল্লাহ তাদের প্রতি এত দয়ালু যে তাদের সম্মান না দেওয়াটাকেও একটা বড় অপরাধ হিসাবে দেখেছেন। তখনকার কুরইশদের মত এখনও কিছু মানুষ আছে যারা ইয়াতীমদের অবজ্ঞা ও রাগান্বিত দৃষ্টিতে দেখে। তাদেরকে সতর্ক করে এই আয়াত।      

ঢেলে দেওয়া শব্দটি اَفْرِغَ (এমনভাবে ঢেলে দেওয়া যার সাথে কোমলতা, আরাম, সুখ থাকে) আবার صَبٌّ (এমনভাবে ঢেলে দেওয়া যার সাথে কঠোরতা, কষ্ট, ব্যাথা থাকে ) শব্দ এর মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়। এই দুটি শব্দ প্রায় সমার্থক ও ইন্টারচেঞ্জেবল শব্দ হিসাবে ব্যবহৃত হলেও আল্লাহ দুই জায়গায় পরিবেশ, আলোচনা, পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে সুন্দরভাবে শব্দ দুটি ব্যবহার করেছেন। 

ধৈর্য্য ঢেলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সূরা বাকারার ২৫০ নং আয়াতে কোমলতা, আরাম, সুখ সমৃদ্ধ ঢেলে দেওয়া শব্দ اَفْرِغَ এবং শাস্তির চাবুক ঢেলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সূরা ফাযর এর ১৩ নং আয়াতে কঠোরতা, কষ্ট, ব্যাথা সমৃদ্ধ শব্দ صَبٌّ  ব্যবহার করেছেন। সুবহানাল্লহ!

পরের সূরার সাথে সম্পর্কঃ ৮৯ তম সূরা আল ফাজর এর শেষে প্রশান্ত আত্মাকে আল্লাহর দিকে সন্তুষ্ট চিত্তে অন্য বান্দাদের সাথে সামিল হওয়ার কথা বলা হয়েছে (আয়াত ২৭-২৯)।  ৯০ তম সূরা (আল বালাদ) য় শুরুতেই (আয়াত ১) মক্কার কথা বলা হয়েছে যে জায়গাটি দুনিয়ার সবচাইতে প্রশান্ত। এখানে হজ্জের সময় তো অবশ্যই, অন্য সময়েও মানুষ সন্তুষ্ট চিত্তে অন্য বান্দাদের সাথে সামিল হয় ‘লাব্বাইক’ বলে।     

সূরা আল ফাজর এর (৬-১০ আয়াতে) আদ, ইরাম, সামুদ ও ফেরাউন এর জনপদের কথা বলে অতিতে ঘুরিয়ে আনা হয়েছে এবং তার সাথে তুলনা করে এই সূরায় মক্কা জনপদ/নগরীর কথা এসেছে। এভাবে আগের নগরীগুলোর পরিনতির কথা বর্ননা করে এখন মক্কায় সেই একই ধরনের বিরুদ্ধাচরন করলে যে একই পরিনতি হবে তার একটা প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সূরা আল ফাজর এর (৬-১০ আয়াতে) আদ, ইরাম, সামুদ ও ফেরাউন এর খারাপ/খল বংশধারার কথা বর্ননা করে আল্লাহ তাদেরই বিপরীতধর্মী ন্যায়/ভালো আদম (আ) থেকে শুরু করে ইবরহীম (আ) এর বংশধারার বিষয়টি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন (আয়াত ৩)।     

সূরা ফাজর এর আয়াত ১৭ তে এতীমদের উপযুক্ত সম্মান না দেয়া মানুষদের কথা বর্নিত হয়েছে, অপরদিকে সূরা আল বালাদের আয়াত ১৫ তে এতীমদের সম্মান দিয়ে সাহায্যকারী মানুষদের কথা বর্নিত হয়েছে।     

একই ভাবে একই ধারাবাহিকতায় দুটি সূরার একটিতে মিসকীনদেরকে খাওয়াবার জন্য  নিজে তো উৎসাহী না উপরন্তু অন্যকেও উতসাহ দেয়া না এমন মানুষদের কথা বলা  হয়েছে। এবং অপরটিতে নিজেদের সুসময়ে তো বটেই উপরন্তু কঠিন দুঃসময়েও  মিসকীনদেরকে খাওয়ায়, সাহায্য করে এমন মানুষদের কথা বলা হয়েছে।    

রেফারেন্স ও কৃতজ্ঞতাঃ বিভিন্ন তাফসীর, বিশেষ করে Nouman Ali Khan এর তাফসীর, বিভিন্ন লেকচার, ভিডিও ইত্যাদি।


উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে 
উস্তাদের দারুন বই কিনতে পারেন এই লিঙ্ক থেকেঃ রিভাইভ ইয়োর হার্ট ডিভাইন স্পিচ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সূরাসমূহের নোট

১৮। সূরা আল কাহাফ (গুহা)

১। সূরা আল ফাতিহা (সূচনা)